সাধারণ নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে। যদিও সময় আছে আরও দেড় বছর। কে জানে, নির্বাচন তো তার আগেও হয়ে যেতে পারে। আগেই জানানো হয়েছিল, নির্বাচন কমিশন সমাজের সব অংশের মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে তো বটেই, সুশীল সমাজও বাদ যাবে না। সেই মোতাবেক ৫৯ জন সুশীলকে আজ নেমন্তন্ন করেছিল কমিশন। তাঁরা অনেকেই এসেছেন, কথা বলেছেন। বলা যায়, বল গড়াতে শুরু করল। বল অবশ্য এখনো কমিশনের কোর্টে। তারা একাদিক্রমে সমাজের অন্যান্য অংশের সঙ্গে কথা বলবে। তারপর হয়তো পরিপ্রেক্ষিত আরও পরিষ্কার হবে।
টেলিভিশনের পর্দায় সংলাপে আমন্ত্রিত ব্যক্তিদের অনেককেই দেখেছি। তাঁরা সবাই চেনা মুখ। সবাই যে সত্যিকার অর্থে নাগরিক সমাজকে প্রতিনিধিত্ব করেন, তা পুরোপুরি সত্য নয়। তাঁদের অনেকেই দলীয় বুদ্ধিজীবী। অর্থাৎ বিশেষ বিশেষ দলের লোক। কাগজে কলাম লিখে বা টেলিভিশনের টক শোতে তাঁরা তাঁদের পছন্দ-অপছন্দ জানান দিতে ভোলেন না। সেই অর্থে বলা যায়, আজকের বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলো একেবারেই অনুপস্থিত ছিল, এটা বলা যাবে না। তারপরও বলা যায়, নির্বাচন নিয়ে কমিশন জন-আলোচনার পর্ব কিংবা প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করল। নিশ্চয়ই এ থেকে ভালো কিছু বেরিয়ে আসবে।
সংলাপ নিয়ে নাগরিক মনে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা, যেমন ঢাকা-চাঁটগার রাস্তা আর বাড়িঘর ডুবে যাওয়া, কলেজছাত্র সিদ্দিকুরের চোখ খোয়ানো, বগুড়ায় নারীর প্রতি পাশবিক সহিংসতা ইত্যাদি শুনে মানুষ খুবই ক্ষুব্ধ। কমিশন আর সংলাপের ব্যাপারটি চাপা পড়ার উপক্রম হয়েছিল। কিন্তু জীবন থেমে থাকে না। নাগরিক নিরাপত্তা তো আর নাগরিকদের হাতে নেই। যা নেই, তা নিয়ে হা-হুতাশ করে তো সমস্যার সুরাহা হবে না। কেউ তো আমাদের বেডরুম পাহারা দেওয়া কিংবা খাটে মশারি টানিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নেননি। আমরা শুধু একটা প্রার্থনাই করতে পারি, নির্বাচনের মাধ্যমে আগামী নির্বাচনে যে সরকার আসবে, তারা আমাদের নিরাপদে রাখবে। সেই ভরসাতেই সবাই উন্মুখ হয়ে আছেন, যাতে একটা ভালো নির্বাচন হয়, ভালো মানুষেরা ভোটে জিতে আসেন। সে জন্য চাই একটা সুন্দর নির্বাচন, জবাবদিহির নির্বাচন।
রাজনৈতিক দলগুলোর নিজস্ব দাবিদাওয়া আছে। তারা ক্ষমতায় যেতে চায়, জনসেবার জন্য তারা মরিয়া। নাগরিকদের ক্ষমতার প্রতি নজর নেই। তাদের দরকার সেবা। এখানে একটি ভারসাম্য তৈরি হবে কি না, তা-ই দেখার বিষয়। কমিশনের কাছে কোনো জাদুর কাঠি নেই, যা দিয়ে তারা এটা নিশ্চিত করতে পারবে। তবে কাগজে-কলমে কমিশনের অনেক ক্ষমতা। তারা যদি শিরদাঁড়া সোজা রাখতে পারে, তাহলে সবই সম্ভব। নাগরিকেরা এটাই চান। তাঁরা চান, কমিশন তার দায়িত্ব তার প্রাপ্ত ক্ষমতাবলে পুরোপুরি পালন করুক। এটা করতে পারলে, নির্বাচনকালীন সরকারের আকার-প্রকার নিয়ে ঝগড়া থাকবে না।
মুশকিল হলো, কমিশনের ওপর মানুষের আস্থায় চিড় ধরেছে। এ আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে এবং এ কাজটি কমিশনকেই করতে হবে। ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে এই কথাই কমিশনকে মনে করিয়ে দেওয়া নাগরিক সমাজের কাজ। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, যাঁদের সুশীল বলে টিটকারি দেন কেউ কেউ, তাঁরা কাজটা অদ্যাবধি ভালোভাবে করতে পারেননি। কেন পারেননি, তারও কারণ আছে। তাঁদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, তাঁদের অনেকেই ছদ্মাবরণে ‘দলদাস’। বলা যেতে পারে, নাগরিকেরা অনেক সময় ব্যক্তিগত লাভালাভের জন্য বিক্রি হন। তাঁদের চেনা এখন আর খুব কঠিন নয়।
‘না’ ভোট দেওয়া না দেওয়ার বিধান থাকবে কি না, এ নিয়ে কথা উঠেছে। নির্বাচনের সময় সেনা মোতায়েন নিয়েও প্রস্তাব আছে। এ নিয়ে রাজনৈতিক দলের মতো নাগরিক সমাজেও বিভক্তি আছে। ‘না’ ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো, ‘আমার কাউকে পছন্দ নয়।’ আমরা তো রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের কাছে দাবি করতে পারি, আপনারা এমন কাউকে মনোনয়ন দেবেন না, যাকে মানুষ পছন্দ করে না। আসলে রাজনৈতিক দলগুলো ঠিকমতো প্রার্থী বাছাই করলে ‘না’ ভোটের দরকার পড়ে না। সেনা মোতায়েনের ব্যাপারও সে রকম। স্থানীয় প্রশাসন কিংবা পুলিশের ওপর আস্থার অভাব হলেই সেনাবাহিনীর দিকে নজর যায়। তো প্রশাসন আর পুলিশকে নিয়ন্ত্রণে রাখা তো কমিশনের কাজ। কাজটা তারা ঠিকমতো করতে পারলে নাগরিকেরা স্বস্তিতে থাকবেন।
কথায় কথায় আমরা ভারতের নির্বাচন কমিশনার আর টি এন সেশনের উল্লেখ করি। কমিশন তো একটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারে, যত বাধাই আসুক, আমরা একটি ভালো নির্বাচন করব। তারা দেখিয়ে দিতে পারে, ‘আমরাও পারি।’
সংলাপ নিয়ে নাগরিক মনে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা, যেমন ঢাকা-চাঁটগার রাস্তা আর বাড়িঘর ডুবে যাওয়া, কলেজছাত্র সিদ্দিকুরের চোখ খোয়ানো, বগুড়ায় নারীর প্রতি পাশবিক সহিংসতা ইত্যাদি শুনে মানুষ খুবই ক্ষুব্ধ। কমিশন আর সংলাপের ব্যাপারটি চাপা পড়ার উপক্রম হয়েছিল। কিন্তু জীবন থেমে থাকে না। নাগরিক নিরাপত্তা তো আর নাগরিকদের হাতে নেই। যা নেই, তা নিয়ে হা-হুতাশ করে তো সমস্যার সুরাহা হবে না। কেউ তো আমাদের বেডরুম পাহারা দেওয়া কিংবা খাটে মশারি টানিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নেননি। আমরা শুধু একটা প্রার্থনাই করতে পারি, নির্বাচনের মাধ্যমে আগামী নির্বাচনে যে সরকার আসবে, তারা আমাদের নিরাপদে রাখবে। সেই ভরসাতেই সবাই উন্মুখ হয়ে আছেন, যাতে একটা ভালো নির্বাচন হয়, ভালো মানুষেরা ভোটে জিতে আসেন। সে জন্য চাই একটা সুন্দর নির্বাচন, জবাবদিহির নির্বাচন।
রাজনৈতিক দলগুলোর নিজস্ব দাবিদাওয়া আছে। তারা ক্ষমতায় যেতে চায়, জনসেবার জন্য তারা মরিয়া। নাগরিকদের ক্ষমতার প্রতি নজর নেই। তাদের দরকার সেবা। এখানে একটি ভারসাম্য তৈরি হবে কি না, তা-ই দেখার বিষয়। কমিশনের কাছে কোনো জাদুর কাঠি নেই, যা দিয়ে তারা এটা নিশ্চিত করতে পারবে। তবে কাগজে-কলমে কমিশনের অনেক ক্ষমতা। তারা যদি শিরদাঁড়া সোজা রাখতে পারে, তাহলে সবই সম্ভব। নাগরিকেরা এটাই চান। তাঁরা চান, কমিশন তার দায়িত্ব তার প্রাপ্ত ক্ষমতাবলে পুরোপুরি পালন করুক। এটা করতে পারলে, নির্বাচনকালীন সরকারের আকার-প্রকার নিয়ে ঝগড়া থাকবে না।
মুশকিল হলো, কমিশনের ওপর মানুষের আস্থায় চিড় ধরেছে। এ আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে এবং এ কাজটি কমিশনকেই করতে হবে। ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে এই কথাই কমিশনকে মনে করিয়ে দেওয়া নাগরিক সমাজের কাজ। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, যাঁদের সুশীল বলে টিটকারি দেন কেউ কেউ, তাঁরা কাজটা অদ্যাবধি ভালোভাবে করতে পারেননি। কেন পারেননি, তারও কারণ আছে। তাঁদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, তাঁদের অনেকেই ছদ্মাবরণে ‘দলদাস’। বলা যেতে পারে, নাগরিকেরা অনেক সময় ব্যক্তিগত লাভালাভের জন্য বিক্রি হন। তাঁদের চেনা এখন আর খুব কঠিন নয়।
‘না’ ভোট দেওয়া না দেওয়ার বিধান থাকবে কি না, এ নিয়ে কথা উঠেছে। নির্বাচনের সময় সেনা মোতায়েন নিয়েও প্রস্তাব আছে। এ নিয়ে রাজনৈতিক দলের মতো নাগরিক সমাজেও বিভক্তি আছে। ‘না’ ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো, ‘আমার কাউকে পছন্দ নয়।’ আমরা তো রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের কাছে দাবি করতে পারি, আপনারা এমন কাউকে মনোনয়ন দেবেন না, যাকে মানুষ পছন্দ করে না। আসলে রাজনৈতিক দলগুলো ঠিকমতো প্রার্থী বাছাই করলে ‘না’ ভোটের দরকার পড়ে না। সেনা মোতায়েনের ব্যাপারও সে রকম। স্থানীয় প্রশাসন কিংবা পুলিশের ওপর আস্থার অভাব হলেই সেনাবাহিনীর দিকে নজর যায়। তো প্রশাসন আর পুলিশকে নিয়ন্ত্রণে রাখা তো কমিশনের কাজ। কাজটা তারা ঠিকমতো করতে পারলে নাগরিকেরা স্বস্তিতে থাকবেন।
কথায় কথায় আমরা ভারতের নির্বাচন কমিশনার আর টি এন সেশনের উল্লেখ করি। কমিশন তো একটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারে, যত বাধাই আসুক, আমরা একটি ভালো নির্বাচন করব। তারা দেখিয়ে দিতে পারে, ‘আমরাও পারি।’
