নওয়াজ শরিফ। ছবি - রয়টার্সগত শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য নওয়াজ শরিফকে অযোগ্য ঘোষণা করেন। এর পরপরই পদত্যাগ করেন নওয়াজ শরিফ। প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে নওয়াজ পদত্যাগ করায় পাকিস্তানের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। এখন প্রশ্ন হলো, নওয়াজ সরে যাওয়ায় লাভবান হলো কোন পক্ষ? সামরিক বাহিনী নাকি নওয়াজের পাকিস্তান মুসলিম লীগের (নওয়াজ) বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো?
পাকিস্তানে ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছিলেন জি পার্থসারথি। তিনি মনে করেন, নওয়াজ সরে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি লাভ হয়েছে সামরিক বাহিনীর। একই মত যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত (২০০৯-২০১১) হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মীরা শংকরের। তিনি বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার কারণে সারা দেশে সামরিক বাহিনীর কর্তৃত্ব আরও সংহত হবে।’
সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ললিত মনসিংয়ের আশঙ্কা, পাকিস্তানের এই রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ভারতে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের তীব্রতা বাড়তে পারে। তিনি বলেন, ‘চীনের সঙ্গে ভারতের সাম্প্রতিক দ্বৈরথের পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে অনুপ্রবেশ করার ব্যাপারে আরও বেশি উৎসাহিত হয়েছে। আর ইসলামাবাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এ কাজের জন্য আরও বেশি সহায়ক হবে।’
গতকাল শনিবারই নিজের উত্তরসূরি বেছে নিয়েছেন নওয়াজ শরিফ। ছোট ভাই শাহবাজ শরিফকেই সবচেয়ে বিশ্বস্ত মনে হয়েছে তাঁর। অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আসবেন শহীদ খাকান আব্বাসী। এর মধ্যে জাতীয় পরিষদে নির্বাচিত হওয়ার কাজ সারবেন শাহবাজ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তানের ৭০ বছরের ইতিহাসের অর্ধেকেই হলো সামরিক শাসন। কিন্তু তারপরও এ দফা হয়তো বেসামরিক সরকারের হাতেই ক্ষমতা থেকে যাবে এবং তা পাকিস্তানের মুসলিম লীগ-নওয়াজ পার্টির কাছেই থাকবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তানের ৭০ বছরের ইতিহাসের অর্ধেকেই হলো সামরিক শাসন। কিন্তু তারপরও এ দফা হয়তো বেসামরিক সরকারের হাতেই ক্ষমতা থেকে যাবে এবং তা পাকিস্তানের মুসলিম লীগ-নওয়াজ পার্টির কাছেই থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান উইলসন সেন্টারের উপপরিচালক মাইকেল কুগলম্যান বলেন, ‘পাকিস্তানের মতো অস্থিতিশীল দেশে প্রধানমন্ত্রীকে অযোগ্য ঘোষণা করার বিষয়টি দুশ্চিন্তা করার জন্য যথেষ্ট। তবে আমি আশা করছি, বর্তমান সরকার তার মেয়াদ শেষ করতে পারবে এবং যথাসময়েই পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’
গত কয়েক বছরে পাকিস্তানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক গতি দেখা গেছে। ২০১৩ সালে যখন নওয়াজ শরিফ ক্ষমতায় আসেন, সেটিও একটি ইতিবাচক ঘটনা ছিল। কারণ পাকিস্তানের মতো দেশে এক নির্বাচিত সরকারের কাছ থেকে আরেক নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করছে, এটিই অভাবনীয় ঘটনা।
পাকিস্তানের অন্যতম রাজনৈতিক বিশ্লেষক হাসান আসকারি মনে করেন, আদালতের নওয়াজকে অযোগ্য ঘোষণা করার ঘটনায় পাকিস্তানের বর্তমান রাজনৈতিক সরকারের খুব বেশি ক্ষতিবৃদ্ধি হবে না। তিনি বলেন, ‘নওয়াজ তাঁর দলের কয়েকজনকে একেবারে নেতৃত্বের সামনের সারিতে নিয়ে আসবেন। তাঁর ভাবমূর্তি আর আগের মতো উজ্জ্বল থাকবে না ঠিকই। কিন্তু এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে, আদালতের এই রায় প্রাথমিকভাবে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে পারেনি।’
পাকিস্তানের অন্যতম রাজনৈতিক বিশ্লেষক হাসান আসকারি মনে করেন, আদালতের নওয়াজকে অযোগ্য ঘোষণা করার ঘটনায় পাকিস্তানের বর্তমান রাজনৈতিক সরকারের খুব বেশি ক্ষতিবৃদ্ধি হবে না। তিনি বলেন, ‘নওয়াজ তাঁর দলের কয়েকজনকে একেবারে নেতৃত্বের সামনের সারিতে নিয়ে আসবেন। তাঁর ভাবমূর্তি আর আগের মতো উজ্জ্বল থাকবে না ঠিকই। কিন্তু এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে, আদালতের এই রায় প্রাথমিকভাবে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে পারেনি।’
পানামা পেপারস কেলেঙ্কারি আদালতে নিয়ে গিয়েছিল পাকিস্তানের অন্যতম বিরোধী দল তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। এই দলের প্রধান ও সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খান নওয়াজের দুর্নীতি নিয়ে অনেক দিন ধরেই সোচ্চার। দেশটির চারটি প্রদেশের একটিতে ক্ষমতায় আছে পিটিআই। গণপরিষদে দলটি যে খুব শক্ত অবস্থানে আছে, তা কিন্তু নয়। এখন প্রশ্ন হলো, পাকিস্তান মুসলিম লীগের (নওয়াজ) বা পিএমএল-এনের বর্তমান অবস্থায় পিটিআই আগামী নির্বাচনে কতটুকু লাভবান হতে পারবে?
লাহোর ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সের অধ্যাপক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রসুল বকশ রইস বলেন, ‘আদালতের এই রায়ে রাতারাতি জনপ্রিয়তার তুঙ্গে যেতে পারবে না পিটিআই। পরিবর্তন শুধু একটাই। সেটি হলো নওয়াজ শরিফ আর প্রধানমন্ত্রী নন।’
অন্যদিকে হাসান আসকারি মনে করেন, পিটিআই সুনাম ও বিশ্বাসযোগ্যতার দিক থেকে কিছুটা হলেও লাভবান হবে। তবে আগাম নির্বাচন দ্রুত হলে এই সুবিধা কাজে লাগাতে পারবে দলটি। আর আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা যত ফিকে হবে, ইমরানের দলের জন্য রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করা কঠিন হতে থাকবে। কারণ, এখনো জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিণত হতে পারেনি পিটিআই।
তবে এটি ঠিক যে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী সুবিধাজনক অবস্থায় পৌঁছে যাওয়ায়, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের সঙ্গে দেশটির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে বড় কোনো অগ্রগতি নিকট ভবিষ্যতে আর দেখা যাবে না। কারণ, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এ ব্যাপারে কখনোই খুব একটা আগ্রহী ছিল না। সাবেক হাইকমিশনার জি পার্থসারথি বলেন, ‘নওয়াজ শরিফ ক্ষমতায় থাকলে, অন্তত আলোচনা করার মতো একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন, যিনি ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে চাইতেন। এখন আর সে অবস্থা থাকল না।’
তবে এটি ঠিক যে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী সুবিধাজনক অবস্থায় পৌঁছে যাওয়ায়, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের সঙ্গে দেশটির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে বড় কোনো অগ্রগতি নিকট ভবিষ্যতে আর দেখা যাবে না। কারণ, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এ ব্যাপারে কখনোই খুব একটা আগ্রহী ছিল না। সাবেক হাইকমিশনার জি পার্থসারথি বলেন, ‘নওয়াজ শরিফ ক্ষমতায় থাকলে, অন্তত আলোচনা করার মতো একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন, যিনি ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে চাইতেন। এখন আর সে অবস্থা থাকল না।’
