• Breaking News

    all-news6361.com

    all-news6361.com

    পাটজাত মোড়ক ব্যবহার সরকারই আইন মানছে না!



    ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করা সরকারি চাল খালাসের কাজ চলছে চট্টগ্রাম বন্দরে। পলি ব্যাগে করে আনা এই চাল পাটের বস্তায় না ভরে সরাসরি গুদামে নেওয়া হচ্ছে। ছবিটি গত বুধবার বিকেলে বন্দরের ৮ নম্বর জেটি থেকে তোলা l সৌরভ দাশচাল সরবরাহ, বিতরণ ও গুদামে সংরক্ষণের ক্ষেত্রে পাটের বস্তার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে সরকার। কিন্তু ভিয়েতনাম থেকে সরকারের আমদানি করা চাল চট্টগ্রাম বন্দরে খালাসের পর তা পাটের বস্তায় ভরা হচ্ছে না। পলি ব্যাগে (ওভেন পলিপ্রপাইলিন ব্যাগ) করেই দেশের বিভিন্ন গুদামে এই চাল সরবরাহ করা হচ্ছে। ভিয়েতনাম থেকে এই চাল পলি ব্যাগে ভরেই আমদানি করা হয়েছে।
    চাল সংরক্ষণ ও সরবরাহের ক্ষেত্রে পলি ব্যাগের ব্যবহার ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন’-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ২০১০ সালে প্রণিত এই আইন বাস্তবায়নে ২০১৩ সালে প্রথম বিধিমালা করে সরকার। সর্বশেষ ২০১৭ সালের সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, ধান, চাল, গম, ভুট্টা, মরিচ, হলুদ, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, ডালসহ ১৭টি পণ্য সংরক্ষণ, সরবরাহ ও মোড়কীকরণে পাটের বস্তার ব্যবহার বাধ্যতামূলক। কেউ এই আইন লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। পলি ব্যাগের কারণে সৃষ্ট পরিবেশদূষণ কমাতে এবং পাট পণ্যের ব্যবহার উৎসাহিত করতে সরকার এই আইন করে।
    পাট অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, পাটজাত মোড়কের আইন বাস্তবায়নে চলতি বছরের ১৫ মে থেকে দেশজুড়ে বিশেষ অভিযান চলছে। গত ৩০ জুন পর্যন্ত দেড় মাসে বিশেষ অভিযানে ৫০২টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা হয় ৭৩৯টি। আইন লঙ্ঘনের কারণে ২৩ লাখ ১২ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এর মধ্যে বাগেরহাটে দুই ব্যবসায়ীকে কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পণ্যে পাটের মোড়ক ব্যবহারে সরকারের এই অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে।
    গত বুধবার চট্টগ্রাম বন্দরের ৮ নম্বর জেটিতে গিয়ে দেখা যায়, ভিয়েতনাম থেকে আসা ‘এমভি ভিসাত ভিসিটি-০৫’ জাহাজ থেকে চাল খালাসের কাজ চলছে। জাহাজ থেকে ক্রেনের সাহায্যে সরাসরি ট্রাকে বোঝাই করা হচ্ছে চালের বস্তা। বস্তাগুলো পলি ব্যাগের। প্রতি বস্তায় ৫০ কেজি চাল থাকার কথা বস্তার গায়েই উল্লেখ রয়েছে। সাদা রঙের এই ব্যাগের গায়ে ইংরেজিতে লেখা গভর্নমেন্ট অব দ্য পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ, ডিরেক্টর জেনারেল অব ফুড, মিনিস্ট্রি অব ফুড। ১৩ জুলাই জাহাজটি ভিয়েতনাম থেকে বন্দরের জলসীমায় পৌঁছায়।
    খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সরকারের আমদানি করা ২০ হাজার টন চাল রয়েছে জাহাজটিতে। বন্দরে খালাসের পর এই চাল চট্টগ্রাম ও সিলেটের বিভিন্ন গুদামে নেওয়া হচ্ছে। তাঁরা বলেন, ভিয়েতনাম থেকে জুলাই মাসে মোট তিনটি জাহাজে করে ৬৮ হাজার ৩০০ টন চাল সরকারিভাবে আমদানি করা হয়েছে। তিনটি জাহাজই এখন বন্দরে রয়েছে।
    বন্দরের কর্মকর্তারা জানান, কনটেইনারে করে আনা চাল সরাসরি বন্দরে খালাস করা যায় না। জাহাজ থেকে চালবাহী কনটেইনার বন্দরের জেটিতে নামানোর পর প্রথমে নেওয়া হয় চট্টগ্রামের কোনো বেসরকারি ডিপোতে। সেখানে কনটেইনার খুলে পাটের বস্তায় চাল ভরা হয়। এরপর তা ট্রাকে করে বিভিন্ন গুদামে নেওয়া হয়। তাঁরা বলেন, সরকারের আমদানি করা চাল এসেছে বাল্ক জাহাজে (কনটেইনারবিহীন জাহাজ)। জাহাজের হ্যাচে (পণ্য রাখার জায়গা) চাল রাখা হয়। বাল্ক জাহাজের চাল বন্দর জেটিতে খালাস করতে হয়। ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করা সরকারি চাল পলি ব্যাগে করেই বিভিন্ন গুদামে নেওয়া হচ্ছে।
    আইনে বাধ্যবাধকতার পরও পলি ব্যাগে দেশের ভেতরে চাল সরবরাহের বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, সরকারিভাবে বন্দর দিয়ে পলি ব্যাগে চাল আনা হচ্ছে। এ জন্য ছাড় দিতে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে আগে দরখাস্ত দেওয়া হয়েছে। খুবই জরুরি পণ্য হিসেবে চাল আনা হচ্ছে। এটা নিয়ে তাদের (বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়) কোনো আপত্তি করার কথা না।
    ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন’ অনুযায়ী বিশেষ ক্ষেত্রে সরকার ছাড় নিতে পারে। কোনো পণ্যে পাটজাত মোড়ক দেওয়া সম্ভব না হলে সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করা চালের ক্ষেত্রে এ রকম কোনো প্রজ্ঞাপন সরকার জারি করেনি। ফলে বন্দর থেকে পলি ব্যাগে করে চাল পরিবহনের ক্ষেত্রে সরকার নিজেই নিজের করা আইন মানছে না এমন প্রশ্ন উঠেছে।
    এ বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘যদি প্রজ্ঞাপন জারি (আইনের চার ধারা অনুযায়ী) করতে হয়, সেটিও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।’
    জানতে চাইলে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে দরখাস্ত পাওয়ার পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সামারি (সারসংক্ষেপ) আকারে পাঠিয়েছিলাম। তবে তিনি তা অনুমোদন দেননি। আইন কার্যকর করার জন্য বিষয়টি আমাদের (মন্ত্রণালয়ের) ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে কী করা যায় তা নিয়ে আগামী মঙ্গলবার সিদ্ধান্ত হতে পারে। তবে যতক্ষণ না চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয় ততক্ষণ পর্যন্ত আইন কার্যকর থাকবে। সরকারি-বেসরকারি সব ক্ষেত্রে আইন সবার জন্য সমান।’
     তবে সরকার আইন না মানলেও বেসকারি আমদানিকারকেরা বন্দর দিয়ে কনটেইনারে আমদানি করা চাল ডিপো থেকে খালাস করার সময় তা পাটের বস্তায় ভরে নিচ্ছেন। গত সপ্তাহে চট্টগ্রাম নগরের এছাক ব্রাদার্স ডিপোতে গিয়ে দেখা যায়, কনটেইনার খুলে প্রথমে পাটের ব্যাগে চাল বোঝাই করছেন শ্রমিকেরা।
    চট্টগ্রামের বিএসএম গ্রুপ, মীর গ্রুপ, গ্রিনগ্রেইন ইন্টারন্যাশনালসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এখন চাল আমদানি করছে। এসব চাল বেসরকারি ডিপোতে খালাস হচ্ছে। জানতে চাইলে বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। আইনের বাধ্যবাধকতার কারণে বেসরকারি আমদানিকারকেরা চাল খালাসের সময় পাটের ব্যাগে বোঝাই করে গুদামে নিচ্ছেন। এতে খালাসে সময় লাগছে। কেজিপ্রতি বাড়তি এক থেকে দেড় টাকাও খরচ হচ্ছে। তিনি বলেন, যদি সরকারিভাবে আমদানি করা চালের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়, তাহলে বেসরকারি আমদানিকারকদেরও ছাড় দেওয়া উচিত।

    Fashion

    Beauty

    Travel