• Breaking News

    all-news6361.com

    all-news6361.com

    আত্মহত্যা নয় শ্বাসরোধে হত্যা: সিআইডি দিয়াজের মায়ের আশঙ্কাই সত্য হলো


    ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহসম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরী আত্মহত্যা করেননি, তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে—দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল রোববার বিকেলে প্রথম আলোকে এ কথা বলেছেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. হুমায়ুন কবির।
    শুরু থেকে দিয়াজের মা বলে আসছিলেন, তাঁর ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।
    মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, ময়নাতদন্তের সঙ্গে যুক্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন দিয়াজকে শ্বাসরোধ করে হত্যার আলামত পেয়েছেন তাঁরা। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁর হাতে এসে পৌঁছায়নি।
    ২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার ভাড়া বাসা থেকে দিয়াজের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সেদিন বাসায় দিয়াজ ছাড়া পরিবারের আর কেউ ছিল না।
    কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে যাওয়ার আগে দিয়াজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা-কর্মীদের মধ্যে তাঁর অনুসারীও রয়েছেন। তখন তাঁরা অভিযোগ করেন, ৯৫ কোটি টাকার দরপত্রের ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে বিরোধের কারণে ছাত্রলীগের একটি পক্ষ দিয়াজকে হত্যা করে বাসায় লাশ ঝুলিয়ে রাখে। দিয়াজের লাশ উদ্ধারের ২২ দিন আগে গত বছরের ১৯ অক্টোবর রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রলীগের চার নেতার বাসায় তাণ্ডব চালান প্রতিপক্ষের নেতা-কর্মীরা।
    দিয়াজের লাশ উদ্ধারের পরদিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে প্রথম ময়নাতদন্ত হয়। ২৩ নভেম্বর পুলিশ জানায়, দিয়াজকে হত্যা করা হয়েছে—এমন আলামত ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মেলেনি। তখন ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে দিয়াজের পরিবারসহ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একটি অংশ। তারা বলে, লাশের সুরতহাল প্রতিবেদনের সঙ্গে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের কোনো মিল নেই।
    ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে এমন অভিযোগ এনে গত বছরের ২৪ নভেম্বর দিয়াজের মা জাহেদা আমিন চৌধুরী বাদী হয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর টিপু (বর্তমানে কমিটি স্থগিত), সাবেক সহকারী প্রক্টর আনোয়ার হোসেন চৌধুরীসহ ১০ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন। পরে ৬ ডিসেম্বর লাশ কবর থেকে তুলে পুনরায় ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন আদালতে। গত বছরের ১১ ডিসেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে লাশের দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত হয়। এরপর চলতি বছরের ২০ মার্চ ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদের নেতৃত্বে ময়না তদন্তকারী দলটি লাশ উদ্ধারের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
    সোহেল মাহমুদ গতকাল সন্ধ্যায় মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি প্রতিবেদনটি সিআইডির কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। ডিএনএ পরীক্ষা এবং ময়নাতদন্তে যা পেয়েছি সব প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছি। বিষয়টি বিচারাধীন বলে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে পারছি না।’
    দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত দলের সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র জানায়, ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত, মরদেহ থেকে সংগ্রহ করা বিভিন্ন নমুনা ও ডিএনও পরীক্ষা, লাশের সুরতহালের সময় উপস্থিত থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্য বিশ্লেষণে বোঝা যায় দিয়াজকে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়।
    দিয়াজের বড় বোন জুবাঈদা ছরওয়ার চৌধুরী গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা শুরু থেকে বলে আসছি আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতার কারণে আজকে আসল সত্যটা বেরিয়ে এসেছে। আমরা সঠিক বিচার চাই। হত্যাকারীরা যেন কোনো রাজনৈতিক আশ্রয় না পায়। স্বাধীনভাবে যাতে তদন্ত কর্মকর্তা মামলাটি তদন্ত করতে পারেন।’

    Fashion

    Beauty

    Travel